দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু মোল্লাবাজার ব্রিজের নির্মাণকাজ
দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত মোল্লাবাজার ব্রিজের নির্মাণকাজ। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন মুন্সীগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের লাখো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ থমকে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও বর্তমানে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে।
ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ জেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে মোল্লাবাজার ব্রিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্রিজটি চালু হলে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ, দ্রুত ও সময়সাশ্রয়ী হবে।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মরহুম জননেতা মিজানুর রহমান সিনহা এই সেতুটির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক, ঢাকা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
বর্তমানে পুনরায় শুরু হওয়া নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সেতুর মাঝের অংশের প্ল্যান ঢালাইয়ের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মাঝের অংশের ঢালাই ও সংযোগের কাজ সম্পন্ন হলে সেতুটির নির্মাণকাজ অনেকটাই শেষ হয়ে যাবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আগামী দুই মাসের মধ্যে সেতুর মাঝের সংযোগস্থলের কাজ শেষ করে মোল্লাবাজার ব্রিজটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। ব্রিজটি চালু হলে সিরাজদিখানের বালুরচর থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে যাতায়াতের সময় ব্যাপকভাবে কমে আসবে। ফলে মাত্র প্রায় ১৫ মিনিটে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
এছাড়া সেতুটি চালু হলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থায়ও আসবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হওয়া এই নির্মাণকাজ যেন আর থেমে না যায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়—এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রধান প্রত্যাশা। মোল্লাবাজার ব্রিজ মুন্সীগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। তাই সেতুটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন