খুঁজুন

আসসালামু আলাইকুম

[bangla_day], [english_date], [bangla_date]

সিপাহীপাড়ায় মুমূর্ষু রোগীর পাশে ‘সেবার ফেরিওয়ালা রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন নওশীন খান

আব্দুল্লাহ খান
প্রকাশিত: Saturday, ৯ মে, ২০২৬, ৬:৩০ pm
সিপাহীপাড়ায় মুমূর্ষু রোগীর পাশে ‘সেবার ফেরিওয়ালা রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন নওশীন খান
৫৩

মুন্সীগঞ্জের সিপাহীপাড়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থ্যালাসেমিয়া ও ক্যান্সার আক্রান্ত এক মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ‘সেবার ফেরিওয়ালা’ যুব সংঘের রক্তদান শাখার সদস্য নওশীন খান। জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দিয়ে তিনি ওই রোগীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ক্যান্সার ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ওই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা দ্রুত রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও সময়মতো প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছিল রোগীর পরিবার।

এমন সংকটময় মুহূর্তে খবর পেয়ে এগিয়ে আসে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেবার ফেরিওয়ালা’। সংগঠনের সক্রিয় সদস্য নওশীন খান দ্রুত সিপাহীপাড়ার হাসপাতালে পৌঁছে সরাসরি রক্তদান করেন।

রক্তদান শেষে নওশীন খান বলেন,
“থ্যালাসেমিয়া ও ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করা রোগীদের জন্য সময়মতো রক্ত পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের ছোট্ট ত্যাগ যদি একটি পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, তবেই আমাদের স্বেচ্ছাসেবা সার্থক।”

এ বিষয়ে ‘সেবার ফেরিওয়ালা’ রক্তদান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আর্তমানবতার সেবায় এবং মুমূর্ষু রোগীদের রক্তের চাহিদা পূরণে তারা সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নওশীন খানের এই মানবিক উদ্যোগ অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে রোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা নওশীন খানের এই মহৎ কাজের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, তরুণ সমাজ এভাবে মানবতার সেবায় এগিয়ে এলে রক্তের অভাবে আর কোনো প্রাণ অকালে ঝরে পড়বে না।

টঙ্গীবাড়ীতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Wednesday, ২০ মে, ২০২৬, ৮:৩৭ pm
টঙ্গীবাড়ীতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় এক যুবকের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ একটি চক্র সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ সাজিয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার রংমেহার বিক্রমপুর টঙ্গীবাড়ী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন টঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন অভিযুক্ত জনি শেখের পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উপজেলার ধীপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার জনি শেখ (২২), পিতা জসিম শেখের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী মোয়াজ্জেম শেখ থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে মোফাজ্জল হোসেন শেখ (৩৫), মোয়াজ্জেম শেখ (৪৫), পারভেজ শেখ (৩০), সোহাগ শেখ (৩২) এবং প্রতিবন্ধী মুন্নী আক্তারকে ব্যবহার করে জনি শেখের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার নাটক’ সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জনি শেখের বাবা জসিম শেখ বলেন, “আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযুক্ত জনি শেখ বলেন, “যে সময় ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সে সময় আমি টঙ্গীবাড়ি বাজারের একটি ফুলের দোকানে কর্মরত ছিলাম। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে। তারপরও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মানহানি করা হচ্ছে।”
জনি শেখের মা খোরশেদা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল হক ডাবলু বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

টঙ্গীবাড়ীতে প্রশাসনের অভিযানে যুবদল নেতার বেকু ভেঙে দেওয়ায় সাংবাদিকদের উপর হামলা

হোসেন হাওলাদার
প্রকাশিত: Tuesday, ১৯ মে, ২০২৬, ১০:০৬ am
টঙ্গীবাড়ীতে প্রশাসনের অভিযানে যুবদল নেতার বেকু ভেঙে দেওয়ায় সাংবাদিকদের উপর হামলা

 

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে অবৈধভাবে বেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ফসলি জমি কাটার ঘটনায় প্রশাসনের অভিযানের পর দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদল নেতা ইকরাম মল্লিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, রোববার বিকেলে উপজেলার সিদ্দেশ্বরী বাজারের পূর্ব পাশে রাউৎভোগ বিল এলাকায় অবৈধভাবে ফসলি জমি কাটার অভিযোগে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওয়াজেদ ওয়াসিফ ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় অভিযানে ব্যবহৃত বেকু মেশিনটি বিনষ্ট করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের অভিযানে বেকু মেশিনটি বিনষ্ট করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিদ্দেশ্বরী বাজার এলাকায় টঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকার প্রতিনিধি ফিরুজ আলম বিপ্লব এবং দৈনিক সময় বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি হোসেন হাওলাদারের ওপর হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফিরুজ আলম বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলা যুবদল নেতা ইকরাম মল্লিক, ছাত্রদল নেতা সজিব রায়হান, পাচগাঁও ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, পাচগাঁও ইউনিয়ন যুবদল নেতা সোহেল মোল্লাসহ ১০-১২ জন আমার চাচা শাহিন শেখ এর দোকানে এসে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং মারধর করে।”

আহত অপর সাংবাদিক হোসেন হাওলাদার বলেন, ইকরাম মল্লিক আমাকে ফোন করে সিদ্ধেশ্বরী বাজারে এনে মারধর করেন। এসময় তার সাথে আরো ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী ছিলো। ইকরাম মল্লিক বলেন,আমরা নাকি তার বেকুর তথ্য প্রশাসন কে দিয়েছি।

হামলার পর স্থানীয় এলাকাবাসী আহত দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তারা চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা যুবদল নেতা ইকরাম মল্লিক। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের মারধর করিনি, শুধু কথা কাটাকাটি হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলসহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

“মিজানুর রহমান সিনহা ছিলেন অমায়িক মানুষ” — ডা. আবু ইউসুফ ফকির

অনিক শেখ
প্রকাশিত: Monday, ১৮ মে, ২০২৬, ৯:৩৩ pm
“মিজানুর রহমান সিনহা ছিলেন অমায়িক মানুষ” — ডা. আবু ইউসুফ ফকির

মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. আবু ইউসুফ ফকির। তিনি বলেন, “মিজানুর রহমান সিনহা ছিলেন একজন অমায়িক ও মানবিক মানুষ। রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আন্তরিকতার সঙ্গে।”

তিনি আরও বলেন, “মুন্সিগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও মানবিক মানুষকে হারালো।”

ডা. আবু ইউসুফ ফকির মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মিজানুর রহমান সিনহা গত ১৫ মে দিবাগত রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তিনি মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

You cannot copy content of this page