টঙ্গীবাড়ীতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় এবিএম সাত্তার
বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম সাত্তার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কল্যাণ কোষাগারে জমা দেন এবং ব্যক্তিগত জীবনেও সাদামাটা জীবনযাপন করেন।
শনিবার (১৬ মে) সকালে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় কর্মসংস্থান ব্যাংকের নতুন শাখা উদ্বোধন উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ বি এম সাত্তার বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেন না। তিনি সরকারি বাসভবনে থাকেন না, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন না। সরকারের ১০টি বুলেটপ্রুফ গাড়ি থাকলেও তিনি সেগুলো ব্যবহার করেন না। গাড়ির ড্রাইভার কিংবা জ্বালানি খরচও সরকারের কাছ থেকে নেন না।”
তিনি আরও বলেন, “তিনি সরকারি সুবিধা নেনই না, বরং নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কল্যাণ কোষাগারে জমা দেন। দুপুরের খাবারের জন্য তিনি ১০০ টাকা বাজেট রাখেন। ওই টাকায় যা পাওয়া যায় তাই খান।”
রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, “আমি কাউকে বিএনপি করার জন্য অনুরোধ করব না। শুধু বলব, বিএনপি সরকার যদি ভালো কিছু করে, সেটা মনে রাখবেন। বিএনপি সঠিক পথে যাচ্ছে কি না, সেটি খেয়াল রাখবেন। যদি দলের কেউ ভুল করে, তাহলে এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে আমাদের জানাবেন। আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমামদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
হেলথ কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই কার্ডের মাধ্যমে একজন মানুষের রোগ ও চিকিৎসার সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। অতীতের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও সহজে জানা যাবে।”
কর্মসংস্থান ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে এ বি এম সাত্তার বলেন, ব্যাংক নিয়ে মানুষের মধ্যে ভালো ও খারাপ দুই ধরনের ধারণা রয়েছে। নতুন এই ব্যাংক শাখাটি যেন মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “ব্যাংকের কর্মকর্তারা এমনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, যেন জনগণ প্রতারিত বা হয়রানির শিকার না হন। কোনো এজেন্ট বা দালালের শরণাপন্ন হতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ড. এ এফ এম মতিউর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওয়াজেদ ওয়াসিফ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবু বকর সিদ্দিক, সাবেক বার কাউন্সিল সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিক।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে পাঁচজন উদ্যোক্তাকে স্বল্পসুদে ঋণের চেক প্রদান করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন