টঙ্গীবাড়ীতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় এক যুবকের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ একটি চক্র সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ সাজিয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার রংমেহার বিক্রমপুর টঙ্গীবাড়ী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন টঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন অভিযুক্ত জনি শেখের পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উপজেলার ধীপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার জনি শেখ (২২), পিতা জসিম শেখের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী মোয়াজ্জেম শেখ থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে মোফাজ্জল হোসেন শেখ (৩৫), মোয়াজ্জেম শেখ (৪৫), পারভেজ শেখ (৩০), সোহাগ শেখ (৩২) এবং প্রতিবন্ধী মুন্নী আক্তারকে ব্যবহার করে জনি শেখের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টার নাটক’ সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জনি শেখের বাবা জসিম শেখ বলেন, “আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযুক্ত জনি শেখ বলেন, “যে সময় ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সে সময় আমি টঙ্গীবাড়ি বাজারের একটি ফুলের দোকানে কর্মরত ছিলাম। সেখানে সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে। তারপরও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মানহানি করা হচ্ছে।”
জনি শেখের মা খোরশেদা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল হক ডাবলু বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন