টঙ্গীবাড়ীতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ।
টঙ্গীবাড়ীতে আগে ঘুষ, পরে স্বাক্ষর
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) আতিকুর রহমান এ অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, সেবা নিতে গেলে এখানে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলই ছাড়া হয় না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে গেলেই দিতে হয় মোটা অঙ্কের উৎকোচ।
সেবা নিতে আসা উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব-অফিসার মকবুল হোসেন জানান, তার নিজস্ব সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলন করতে গেলে সহকারী নিরীক্ষক মো. মাসুদ তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন।
সেবা নিতে আসা ফায়ার ফাইটার রুহুল আমিন জানান, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে শান্তি-বিনোদন ভাতা ২৩ হাজার ৫ শত টাকা তুলতে গেলে সহকারী নিরীক্ষক মো. মাসুদ তার কাছ থেকেও ১ হাজার টাকা দাবি করেন।
পরে বিষয়টি উপজেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) আতিকুর রহমানকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানান।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ভাতা উত্তোলনের সময় তার কাছ থেকেও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার কাজী শহিদুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে সহকারী নিরীক্ষক মো. মাসুদ উৎকোচ দাবি করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, “আমরা শিক্ষক মানুষ, কতটাইবা বেতন পাই। আমাদের কাছ থেকেও টাকা ছাড়া ফাইল ছাড়ে না।”
এ বিষয়ে সহকারী নিরীক্ষক মো. মাসুদ বলেন, “সাংবাদিকরা অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিল সম্পর্কে বুঝবেন না। অফিসে আসেন, বুঝিয়ে দেব।”
উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, “ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। সহকারী নিরীক্ষক মো. মাসুদকে নিয়ে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে দুই পক্ষকে ডেকে সমাধান করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আটকানো ফাইল দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে সত্যতা পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

আপনার মতামত লিখুন