খুঁজুন

আসসালামু আলাইকুম

[bangla_day], [english_date], [bangla_date]

আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)

অনিক শেখ
প্রকাশিত: Monday, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২০ pm
আবারও সিন্ডিকেটের কবলে পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)
২১

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) আবারও একটি সিন্ডিকেটের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিগত সরকারের সময়কার কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মচারী, সিবিএ নামধারী একটি গোষ্ঠীর আড়ালে নতুন মোড়কে নিজেদের পুনর্গঠিত করে সুপরিকল্পিতভাবে পুরনো প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।

পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৯৯-এর মাধ্যমে পল্লী বাংলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে পিডিবিএফ একটি অলাভজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তবে শুরু থেকেই আইনের কিছু কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে, বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের সুযোগ থাকায়, অনেক ক্ষেত্রে নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে সিবিএ কার্যক্রম চালুর সুযোগ থাকায়, কিছু অসাধু কর্মচারী নেতা ও চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মধ্যে অশুভ আঁতাত গড়ে ওঠে। এই আঁতাতের মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে বিগত প্রায় ২৫ বছর, এবং গত ১৬ বছরে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তখন পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চুক্তি বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে একজন যুগ্মসচিবকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটিতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং একটি সুস্থ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

তার নেতৃত্বে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়—প্রধান কার্যালয়ের ভবন ক্রয়, ১৬৬৫ জন জনবল নিয়োগ, ১০৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদোন্নতি, আয়কর সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন এবং আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকায় প্রধান কার্যালয়ের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দ লাভসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।

কিন্তু এই কঠোর অবস্থানের ফলে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাত লাগে। ফলে তারা ওই কর্মকর্তাকে অপসারণের জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। তার বিরুদ্ধে বেনামি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার এবং কিছু অসাধু সাংবাদিকের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের মতো কর্মকাণ্ড চালানো হয়।

অবশেষে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পিডিবিএফ-এর একটি ইতিবাচক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে এবং সিন্ডিকেট পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে একই কৌশলে আরেকজন প্রেষণপ্রাপ্ত পরিচালকের বদলিও নিশ্চিত করা হয়।

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের আইন ও প্রবিধান লঙ্ঘন করে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা বিদ্যমান বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুপস্থিতিতে প্রেষণ বা সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পিডিবিএফ-এর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের স্বার্থে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে পরিচালকদের পদায়ন অব্যাহত রাখা জরুরি। পাশাপাশি, পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন আইন, ১৯৯৯ যুগোপযোগী করে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত প্রয়োজন।

পল্লী বাংলার দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই প্রতিষ্ঠানটিতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।

সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় ছাত্রশক্তির হেল্প ডেস্ক কর্মসূচি

আব্দুল্লাহ খান
প্রকাশিত: Saturday, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৮ pm
সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় ছাত্রশক্তির হেল্প ডেস্ক কর্মসূচি

 

মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হরগঙ্গা কলেজে ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে একটি হেল্প ডেস্ক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের মাঝে কলম, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা রাখা হয়। এছাড়াও জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা, রক্তচাপ (প্রেসার) মাপা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল আলিম, যুগ্ম সমন্বয়ক ফারজানা আক্তার, জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শিশির হাসান, মুখ্য সংগঠক শান্ত, যুগ্ম সদস্য সচিব নয়ন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অভি আহমেদ এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির সদস্য সচিব জুয়েল আহমেদসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সরকারি হরগঙ্গা কলেজ মুন্সিগঞ্জ জেলার একটি ঐতিহাসিক ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলায় এবং সারাদেশে সুপরিচিত। প্রতিবছর এই কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে থাকে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসে।

অনিয়ম ও ভূল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের ৩ জন প্রত্যাহার

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Saturday, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪২ pm
অনিয়ম ও ভূল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের ৩ জন প্রত্যাহার

 

মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ঘুষ গ্রহণকারী কর্মচারী স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানসহ
ভুল তথ্য ছড়ানো ও কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি থাকা ও নানা অনিয়মের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের ৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে জেলা শহরের ২৫০ শয্যার মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আস্মিক পরিদর্শনে এসে সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার, মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিষ্ট মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এদিন বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন সরমঞ্জামদি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।

এছাড়াও হাসপাতালের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ-চারিতা করেন। পরে তিনি জলাতংকের ভ্যাকসিন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আহাম্মদ কবীরকে প্রত্যাহার করেন।

তাছাড়া অনিয়ম ও কর্মস্থালে অনুপস্থিতির কারণ দেখিয়ে সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দার ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী মিজানুর রহমাকে প্রত্যাহার করেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ ই মার্চ মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের ভিডিও বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রত্রিকার মাল্টিমিডিয়া ও মুন্সীগঞ্জের সময় পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া বিভাগে ও পরের দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমান দুই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানি ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। পরে জেলার প্রায় সকল উপজেলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও স্টেনোটাইপিস্ট মো মিজানুর রহমানের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে জেলার সাংবাদিকগণ।

মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় মুন্সীগঞ্জ সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সেই সাথে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে জেলাবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানায়। এছাড়াও জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের মান উন্নয়ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা।

 

মুন্সীগঞ্জ শিলই ইউনিয়ন মাদক নির্মুল কমিটি সভাপতি জাকির, সাধারণ সম্পাদক ওসমান।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: Thursday, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০২ pm
মুন্সীগঞ্জ শিলই ইউনিয়ন মাদক নির্মুল কমিটি সভাপতি জাকির, সাধারণ সম্পাদক ওসমান।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়ন মাদকবিরোধী নির্মুল কমিটি গঠনে সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন জমাদার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামিম ওসমান ভূঁইয়া।

শিলই ইউনিয়ন মাদক বিরোধী নির্মুল কমিটি গঠনে হলেন যারা- পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ প্রধান উপদেষ্ট হিসেবে মোঃ মমিনুল ইসলাম ও সদস্য পদে নরুল হক মোল্লা, আকরাম হোসেন বেপারী, মোঃ শাহিন মোল্লা, আলী আজগর পলাশ, রাতুল আহমেদ সজিব, মোতালেব হোসেন মেম্বার, বাদল মোল্লা, আলমগীর হাওলাদার, আরিফ বেপারী, জার্নালিস্ট মোঃ সুজন বেপারী, তুষার বেপারী।

শিলই ইউনিয়ন মাদকবিরোধী নির্মুল কমিটি সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন জমাদার বলেন,যা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা জানি, মাদক আমাদের তরুণ প্রজন্মকে, আমাদের সমাজকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং পুরো রাষ্ট্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

You cannot copy content of this page