মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বয়রাগাদী ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের নারী ও কিশোরসহ ছয়জনকে টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও আঘাত করে গুরুতর জখম করার ঘটনায় বয়রাগাদী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন নিলয়কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার হলেও মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি জয়নাল, কামাল, মহি উদ্দিন ও আসক আলী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সকাল প্রায় ৯টার দিকে কুমারখালী গ্রামে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোসাম্মৎ রুনা বেগমের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার জয়নাল ও কামাল গংদের বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১৫ জন নামীয় আসামি এবং আরও ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি টেঁটা, লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে রুনা বেগমের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি আক্রমণ শুরু করলে ১৪ বছর বয়সী কিশোর ইয়ামিন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও হামলার শিকার হন।

হামলায় আবুল হোসেন (৫৭) হাতে টেঁটাবিদ্ধ হন, সালাম (৫৫) মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। এছাড়া আমির আলী (৬০) ও কামাল (৩০) পায়ে টেঁটাবিদ্ধ হন এবং শাহানাজ (২৭) লাঠি ও ইটের আঘাতে আহত হন।

গুরুতর আহত ইয়ামিনকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর আহতরা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ঘটনায় আহত কিশোরের মা মোসাম্মৎ রুনা বেগম বাদী হয়ে ১২ জুন সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৫০৬/১১৪ ধারায় (মামলা নং-১৮) রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন নিলয়কে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাদী মোসাম্মৎ রুনা বেগম বলেন, আমার পরিবারের ওপর পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। আমার ছেলে এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। কয়েকজন আসামি গ্রেফতার হলেও মূল হোতারা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি পলাতক সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের নৃশংস হামলার সাহস না পায়।