Monday, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৬:০৫ am

পাঁচ বছর পর খুলছে কমিউনিটি ক্লিনিক, স্বস্তি ফিরছে স্থানীয়দের

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের চর বেহেরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি স্থাপনের প্রায় পাঁচ বছর পর অবশেষে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে ক্লিনিকটি স্থাপন করা হলেও এতদিন সেখানে উদ্বোধন কিংবা চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে চর বেহেরপাড়া ও আশপাশের এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কাছাকাছি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল মালেক। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত ক্লিনিকটির কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। আপাতত সপ্তাহে দুই দিন ক্লিনিকটি পরিচালনার কথা জানান তিনি।
ডা. মোহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ক্লিনিকটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন ক্লিনিকটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দিঘীরপাড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশপাশের কয়েকটি গ্রাম এবং এলাকার একটি আশ্রয়প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস রয়েছে। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার একটি আশ্রয়প্রকল্পেও অনেক মানুষ বসবাস করেন। এসব এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে এতদিন প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য দূরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়েছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ক্লিনিকটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নিয়মিতভাবে ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালিত হলে নিম্নআয়ের মানুষসহ এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন।
জানা গেছে, ক্লিনিকটি চালুর উদ্যোগের পেছনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি মমতাজ আলো, শামীম মোল্লা ও লিখন খানের ভূমিকা রয়েছে।
বুধবার ক্লিনিক পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি শামীম মোল্লা, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার খোকন হালদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুল মালেক, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) এস এম মিজানুর রহমান এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক (ইনচার্জ) মেরিনা জাহান মুন্নী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্থাপনের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকটি নিয়মিত চালু হলে চর বেহেরপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে। পাঁচ বছর পর ক্লিনিকটি চালুর উদ্যোগকে তাঁরা এলাকার মানুষের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

এই নিউজটি শেয়ার করুন

QR Code for this article

QR কোড স্ক্যান করে এই নিউজটি শেয়ার করুন