Tuesday, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৯:২৬ am

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে শক্তির ছাপ রাখলেন মুন্সীগঞ্জের পাওয়ারলিফটার মো. মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত “The Strength Haven” পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন মুন্সীগঞ্জের কৃতি পাওয়ারলিফটার মো. মিরাজ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার রামপাল ইউনিয়নের পূর্ব দেওসার এলাকার ঢালী বাড়ির সন্তান। ওপেন বিভাগে ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে অংশ নিয়ে তিনি মোট ৪৮৭.৫ কেজি ওজন উত্তোলন করে ৪২

জন প্রতিযোগীর মধ্যে চতুর্থ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

প্রতিযোগিতায় মিরাজ স্কোয়াটে ১৭০ কেজি, বেঞ্চ প্রেসে ১০২.৫ কেজি এবং ডেডলিফটে ২১৫ কেজি ওজন উত্তোলন করেন। তিনটি ইভেন্ট মিলিয়ে তার মোট উত্তোলন দাঁড়ায় ৪৮৭.৫ কেজি, যা তাকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসরে অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

মো. মিরাজের পাওয়ারলিফটিংয়ের পথচলা আজকের নয়। স্কুলজীবন থেকেই শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ থাকলেও ২০২২ সাল থেকে তিনি পেশাদারভাবে পাওয়ারলিফটিং অনুশীলন শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের পাওয়ারলিফটিং অঙ্গনে নিজের একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হন তিনি।

দেশীয় পর্যায়ে তার অর্জনও কম নয়। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত Metal War Powerlifting Competition-এ ৭৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি একই বছরে Fit Guru Powerlifting Championship-এও একই ওজন শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের প্রথম University Powerlifting Championship-এ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন এবং সরকারি হরগঙ্গা কলেজের প্রতিনিধিত্ব করেন, যা তার ক্রীড়া জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর নতুন পরিবেশ, পড়াশোনা ও জীবনের নানা ব্যস্ততার কারণে একসময় খেলাধুলা থেকে দূরে সরে যেতে বসেছিলেন মিরাজ। তবে পাওয়ারলিফটিংয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস তাকে আবারও প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরিয়ে আনে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মিরাজ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর জীবন অনেকটাই বদলে যায়। নতুন পরিবেশ, পড়াশোনা ও নানা ব্যস্ততার মাঝে কখনো কখনো মনে হয়েছে যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলছি। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিই আবার পাওয়ারলিফটিংয়ে ফিরব। পথে নানা বাধা ও প্রতিকূলতা এসেছে, কিন্তু আমি কখনো হাল ছাড়িনি। এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় লড়াই ছিল নিজের সঙ্গে নিজের। আজ আমি সেই লড়াইয়ে সফল হতে পেরেছি।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আরও বড় সাফল্য অর্জন করাই তার মূল লক্ষ্য। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে চান।

মো. মিরাজের এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার এই সাফল্য দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

এই নিউজটি শেয়ার করুন

QR Code for this article

QR কোড স্ক্যান করে এই নিউজটি শেয়ার করুন