Tuesday, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৯:০৫ am

ইতালিতে ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে ভিডিও কলে লাশ দেখালেন বড় ভাই।

ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহরে ঘটেছে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ভ্রাতৃঘাতী হত্যাকাণ্ড। পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত বড় ভাই ভিডিও কলে স্বজনদের নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ দেখিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
নিহত নয়ন ফকির (২৪) এবং অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকির—উভয়েই মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের বাসিন্দা, দেলোয়ার হোসেনের সন্তান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় গত বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালির ওই শহরের একটি বাসায় দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নয়নকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।
ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো—হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত হুমায়ুন বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল দেন। কলের সময় তিনি নিহত নয়নের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখান এবং নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে স্বজনরা জানান। এমন দৃশ্য দেখে পরিবার সদস্যরা ভেঙে পড়েন কান্নায়, সৃষ্টি হয় শোকের ছায়া।
নিহতের ঘনিষ্ঠদের বরাতে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে হুমায়ুন লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাড়ি জমান। পরে ২০২৩ সালে তাঁর মাধ্যমেই ছোট ভাই নয়ন ইতালিতে যান। পারিবারিক জীবনের নানা বিষয়, বিশেষ করে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়া নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। ছোট ভাইয়ের পরামর্শে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন হুমায়ুন—এমন ধারণা থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার পরপরই ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি সে দেশের পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল হক ডাবলু জানান,
“আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে ইতালিতে ভাই কর্তৃক ভাই খুনের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি দেশের বাইরে হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে। এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবার থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
এদিকে, এক ছেলের মৃত্যু এবং আরেক ছেলের গ্রেপ্তারের খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্বজনরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এই নিউজটি শেয়ার করুন

QR Code for this article

QR কোড স্ক্যান করে এই নিউজটি শেয়ার করুন