Wednesday, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ | ১১:১০ am

মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিক নাদিমকে প্রাণনাশের হুমকি যুবদল কর্মীর

 

 

মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিক নাদিম হোসাইনকে (৩০) মেরে লাশ গুমের হুমকি দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে ও যুবদল কর্মী সুজন সরকার। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ হুমকির ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক নাদিম হোসাইন দৈনিক আমাদের সময়–এর মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি। তিনি মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার কাজিম উদ্দিনের ছেলে। হুমকির ঘটনায় তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

অভিযুক্ত সুজন সরকার পৌরসভার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নাছিমা আক্তার সিমার ছেলে। সুজন আ. লীগ সরকারের সময় নিজেকে যুবলীগ কর্মী পরিচয় দিলেও সরকার পতনের পর যুবদল নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ ডায়েরি ও সাংবাদিক নাদিমের সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে শহরের শ্রীপল্লী এলাকার তাহমিনা পারভীন নামে এক নারীর কাছ থেকে টং দোকান করার জন্য জায়গা ভাড়া নেন নাদিম ও তাঁর বাবা কাজিম উদ্দিন। মাসিক ৫০০ টাকা ভাড়ায় নাদিমের বাবা চায়ের দোকান চালাতেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর যুবদল কর্মী সুজন দোকানের জায়গাটি নিজের দাবি করে নাদিমদের দোকান ভেঙে দিতে চান। পরে দোকানের জন্য নাদিমের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা চাঁদা নেন তারা। ছয় মাস আগে নাদিমরা জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মালিক পক্ষ অন্যজনের কাছে জায়গাটি ভাড়া দেন। সোমবার রাতে নতুন ভাড়াটিয়ারা নাদিমদের টং দোকান সরিয়ে নিজেদের দোকান স্থাপন করেন।

এ নিয়ে সুজন ও তাঁর মা নাছিমা আক্তার সিমা ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার ফোনে নাদিমকে প্রেসক্লাবের সামনে ডেকে আনেন। সেখানে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মেরে ফেলার হুমকি দেন সুজন।

সাংবাদিক নাদিম বলেন, “জোর করে ১৫ মাস আমার বাবার কাছ থেকে ১,০০০ টাকা করে নিয়েছে সুজন। আমরা দোকান ছেড়ে দিতে চাইলে তারা ভাবছে আমরা মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করেছি। এ কারণেই তারা আমাকে মেরে ফেলতে চায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিয়মিত সুজনদের এলাকায় দিয়ে একা বাড়ি যাই। সুজন নেশাগ্রস্ত। সে যে কোনো সময় যে কোনো ঘটনা ঘটাতে পারে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তা চাইছি। এছাড়া সুজন যুবদল কর্মীর পরিচয় দেয়, তাই তাঁর দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছেও বিচার চাই।”

এ বিষয়ে পৌরসভার সাবেক মহিলা কাউন্সিলর নাছিমা আক্তার সিমা বলেন, “নাদিমের বাবা যে জায়গায় দোকান চালাতেন, সেই জায়গাটির মালিক আমরা। তারা অবৈধভাবে ভাড়া নিয়ে দোকান চালাতেন। দোকান সরিয়ে নিতে বলেছি মাত্র। আমার ছেলে সুজন শুধু রাগ করেছে, কিন্তু মেরে ফেলার হুমকি দেয়নি।”

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজীব দে বলেন, “একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে একটি জিডি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই নিউজটি শেয়ার করুন

QR Code for this article

QR কোড স্ক্যান করে এই নিউজটি শেয়ার করুন