অক্টোবর ২২, ২০১৯ ২:০২ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ
মসলায় কমবে হাইপারটেনশন!

মসলায় কমবে হাইপারটেনশন!

কয়েক ধরনের মসলা দিয়ে তৈরি ওষুধ ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে ইঁদুরের রক্তচাপ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা, যাঁর মধ্য দিয়ে ক্রনিক হাইপারটেনশনের চিকিৎসায় তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন নতুন আশার আলো। এই গবেষক দলের নেতা কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ এস থানিকাচালাম জানান, ভারতীয় উপমহাদেশে রান্নায় ব্যবহৃত সাধারণ মসলা ব্যবহার করেই তাঁরা এ গবেষণা চালিয়েছেন আদা, এলাচ, জিরা, মরিচ বা লঙ্কা, শ্বেতপদ্মের পাপড়িসহ কিছু উপাদান মিশিয়ে তাঁরা ইঁদুরকে খেতে দিয়েছেন খাবারের সঙ্গে। ‘‘গবেষণায় আমরা দেখেছি, ওই খাবারে ইঁদুরের শারীরবৃত্তীয় কর্মকান্ডে অনেক পরিবর্ত এসেছে বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ অনেকটা কমে এসেছে থানিকাচালাম চেন্নাইয়ের শ্রী রামচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান তিনি জানান, তাঁদের তৈরি করা ওষুধে কেবল ইঁদুরের রক্তচাপই নিয়ন্ত্রণে আসেনি, ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’-ও কমে এসেছে টিউবারকুলোসিস, অর্থাৎ টিবি বা যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে সহায়তার জন্য বেলজিয়ান বেসরকারি সংস্থা আপোপো বিশেষ প্রজাতির ইঁদুরের প্রজনন করাচ্ছে আফ্রিকার এই ধরনের ইঁদুরের নাম দেয়া হয়েছে গিলবার্ট তানজানিয়ার মোরোগোরো শহরের পরীক্ষাগারে এক চৌকোনা খাঁচায় মানুষের থুথুর নমুনা রাখা হয় গিলবাটর্রা গন্ধ শুঁকেই জানিয়ে দেয় থুথুতে সংক্রমণ হয়েছে কিনা এমন চল্লিশটি ‘নায়ক ইঁদুর’ আছে সেই পরীক্ষাগারে। ভারতের গবেষকরা মূলত কাজ করেছেন রেনোভাসকুলার হাইপারটেনশন নিয়ে কিডনির ধমনী সরু হয়ে গেলে এ ধরনের হাইপারটেনশন এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় ভারতে হাইপারটেনশন খুব সাধারণ একটি রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের শহর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রতি চার জনে একজন হাইপারটেনশনের রোগী কিন্তু ওষুধের উচ্চমূল্য ও বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেকেই নিয়মিত চিকিৎসা নেন না। উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ভারতীয় মসলা নিয়ে গবেষণা এটিই প্রথম নয় এর আগে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, স্ট্রোকের পর মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে হলুদ ভালো ফল দিতে পারে থানিকাচালাম জানান, এবারের গবেষণায় তাঁরা মসলার যে মিশ্রণটি ব্যবহার করেছেন, প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যেও তার উল্লেখ রয়েছে এ ধরনের ভেষজ ওষুধের ব্যবহার আমাদের এখানে চলে আসছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিজ্ঞানসম্মতভাবে এর ব্যবহারবিধি তৈরি করার কাজটিই কেবল বাকি” বিজ্ঞানীরা এখন দেখবেন, এই ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে ইঁদুরের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর এরপর তা পরীক্ষা করা হবে মানুষের ওপর থানিকাচালাম জানান, দামে কম এবং কার্যকর একটি ওষুধ তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য। তাঁদের গবেষণাপত্রটি চিকিৎসা সাময়িকী এক্সপেরিমেন্টাল বায়োলজি অ্যান্ড মেডিসিনের জুন সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top