জানুয়ারী ২২, ২০২০ ১১:০৩ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরে ১৩০০ বছরের পুরানো শহর

মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরে ১৩০০ বছরের পুরানো শহর

ডেস্ক: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বর গ্রামে যে প্রতœতত্ব নির্দেশন আবিস্কৃত হয়েছে তা প্রায় ১৩০০ বছর পুরানো। আমেরিকার বেটা ল্যাবরেটরির এখানে প্রাপ্ত ২৬টি কাঠ কয়লার কার্বন পরিক্ষা করে এটা প্রমাণিত হয়েছে এটি। ওই স্থান হতে প্রাপ্ত কাঠ কয়লা পরীক্ষা করে দেখা গেছে এখানকার এই প্রতœস্থানে দুটি পর্যায়ের সময়কালের মানব বসতি ছিল। প্রথম পর্যায় ৭৮০-৯৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় পর্যায় ৯৫০-১২২৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। প্রতœতত্ত্ব খনন কাজে নিয়োজিত অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক জরিপ ও খনন কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সাল প্রর্যন্ত অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে বিক্রমপুর অঞ্চলে ৯টি প্রতœস্থানে খনন করে প্রাচীন মানববসতির চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়। ইতিমধ্যে রঘুরামপুরে বিক্রমপুরী বৌদ্ধ বিহারে ৭টি বৌদ্ধ ভিক্ষু কক্ষ আবিষ্কৃত হয়েছে। রঘুরামপুরে প্রতœতাত্ত্বিক খনন চলমান রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বর প্রতœস্থানে খনন কাজ শুরু হয়। প্রায় ১০ একর জায়গা জুড়ে প্রতœতাত্ত্বিক ঢিবিতে কাজের বিশালত্বের কারণে চীনের হুনান প্রাদেশিক প্রতœতাত্ত্বিক ইন্সটিটিউটকে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে গবেষণা কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ২০১৪ সালে একটি চীনা প্রতœতাত্ত্বিক দল খনন কাজে যোগ দেয়। যৌথ খননে এবার বেশ কিছু তাৎপার্যপূর্ণ জিনিষ আবিষ্কৃত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সেই সময়ে ইট দিয়ে নির্মান করা রাস্তা, চতূর্থ কোন, অষ্টকোন বিশিষ্ট বৌদ্ধ উপশানালয়, পয় নিস্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যাবস্থা দেখে মনে হয় আজ থেকে ১৩শত বছর পূর্বে সেখান এক সভ্য জাতি বসবাস করতো। এছাড়াও ইতিমধ্যে খননে প্রাপ্ত প্রতœবস্তুর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণও সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকার বিখ্যাত বেটা ল্যাবরেটরি থেকে ২৬টি কাঠ-কয়লার কার্বন-১৪ পরীক্ষায় এর ব্যবহারের তারিখ পাওয়া গেছে। কার্বন-১৪ ভিত্তিতে নাটেশ্বর প্রতœস্থানে মানব বসতির দুটি পর্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে। অগ্রসর বিক্রমপুরের জ্ঞানপীঠের নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী জানান, এবছর এপর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার স্কয়ার মিটার এলাকা খনন করা হয়েছে। যত খনন হচ্ছে ততই বিস্ময়কর স্থাপনা বেরিয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top